প্রেস বিজ্ঞপ্তি: মহান মে দিবস-২০২০ ও কর্মজীবী নারী’র ২৯তম প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর ডাক

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: মহান মে দিবস-২০২০ ও কর্মজীবী নারী’র ২৯তম প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর ডাক

করোনাকালীন সময়ে শ্রমিক ছাঁটাই ও লে-অফ বন্ধসহ সকল ক্ষেত্রের শ্রমিকের জন্য কাজ, ন্যায্যমজুরি, ক্ষতিপূরণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রেশনিং ব্যবস্থা নিশ্চিত কর

২০২০ সাল, সারা পৃথিবীর মানুষ করোনা যুদ্ধে রয়েছে। সমস্ত দেশে দেশে মৃত্যু আর মৃত্যু। স্তব্ধ হয়ে আছে গোটা পৃথিবী। এই পরিস্থিতি নিয়ে ‘কর্মজীবী নারী’ সংগঠন মহান মে দিবস ও তাঁর গৌরবোজ্জ্বল ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। কর্মজীবী নারী’র জন্ম হয়েছে অর্থনীতির বুনিয়াদ নারীশ্রমিকদের অধিকার রক্ষার সংকল্প নিয়ে। মহান মে দিবস ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি শিরীন আখতার এমপি, সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদিকা শারমিন কবীর তাদের বিবৃতি দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার, এমপি তাঁর বিবৃতিতে বলেন, আমরা একটা সংকটের মধ্য দিযে চলছি। করোনার মহামারী আমাদের জীবনযাত্রাকে স্তব্দ করে দিয়েছে। তাই এই মূহূর্তে মহান মে দিবসের অভিনন্দন জানানোর চাইতে সবচেয়ে বেমি প্রয়োজন সবার একাত্মতা। সেই একাত্মতার জন্য আজকের এই শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। পৃথিবী যখন এগিয়ে চলছে তখন করোনার থাবা আমাদের কার্যক্রম স্তব্দ করে দিয়েছে। কলকারখানা ছুটি, খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা কর্মহীন, কৃষক মাঠে অসহায় হয়ে আছে। শ্রমজীবী মানুষ যখন গুটিয়ে গেছে তখন পৃথিবীর সমস্ত উৎপাদন, এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস ও সমস্ত ধরণের উন্নয়নও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মূল্য দিতে হচ্ছে শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষদের। বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে নারীশ্রমিকেরা এবং নারীরা সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের পাশে দাঁড়ানো অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমজীবী-কর্মজীবীদের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে তাদের তালিকা করা সহ খাবার সংস্থান, কর্মের ও মজুরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ যেন অসহায় ও বিপন্ন বোধ না করে তার জন্য কর্মপরিবল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আসুন সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মে দিবসের প্রত্যয় নিয়ে শ্রমজীবীদের পাশে দাঁড়াই।

সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, আজ কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একই সাথে মহান মে দিবসও। দিনটি শ্রমজীবী মানুষদের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। করোনার মহামারী আমাদের সবাইকে গৃহবন্দী করেছে। এর ভয়াবহতার প্রভাব অর্থনীতির উপর পড়েছে যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে শ্রমজীবীদের। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ৯০ শতাংশ শ্রমিক, তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। করোনা আমাদের মানবতা শিখিয়েছে। আর সেই মানবতা দিয়ে শ্রমিক-মালিক তাদের কল্যাণে একে অপরের পাশে থাকবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শারীরিক দূরত্ব আমাদের মধ্যে দুরত্ব তৈরি করলেও মানসিকভাবে আমরা একে অপরের কাছাকাছি বলে মনে করেন সাধারণ সম্পাদিকা শারমিন কবীর। তিনি বলেন,করোনার এই ভয়াবহতা আমাদের শিখিয়েছে আমরা সবাই সমান। আমাদেরকে ধৈর্য্য ও ভালবাসা দিয়ে সবার পাশে থাকতে হবে।
মহান মে দিবস ২০২০ এবং কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে করোনাকালীন শ্রমজীবী-খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষদের জন্য কর্মজীবী নারী’র দাবি:
১. করোনাকালীন সময়ে সকল শ্রমিকের কাজ, মজুরি, ক্ষতিপূরণসহ ঘরে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২. সাধারণ ছুটির সময়ে শ্রমিক ছাঁটাই, কল-কারখানা বন্ধ করা চলবে না।
৩. করোনাকালীন সময়ে সকল শ্রমিকের জন্য পর্যাপ্ত রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. অতি জরুরি কাজে নিয়োজিত সকল শ্রমিকের জন্য কার্যকর পিপিই এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. করোনাকালীন সকল শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. করোনা আক্রান্ত শ্রমিকদের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৭. ফিরে আসা প্রবাসী শ্রমিক এবং বিদেশ গমন প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।
৮. শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বার্তা প্রেরক
হাছিনা আক্তার, সমন্বয়ক (এইচ আর এন্ড এডমিন), কর্মজীবী নারী
যোগাযোগ: ০১৭২৬২৯১৬৬৪; রাজীব আহমেদ, সমন্বয়ক, কর্মজীবী নারী

Press Release on May Day-2020 &  Karmojbi Nari’s 29th Anniversary | PDF FILE

ট্রেড ইউনিয়নে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজন তৃণমূল থেকে সর্বস্তরে নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করা -শিরীন আখতার

ট্রেড ইউনিয়নে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজন তৃণমূল থেকে সর্বস্তরে নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করা -শিরীন আখতার

ডেস্ক রিপোর্টঃ আজ ২৭ নভেম্বর ২০১৯ কর্মজীবী নারী ’নারীশ্রমিক কণ্ঠ’ এর সাথে ফ্রেডরিক এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস) এর সহযোগিতায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সকাল ১০:০০ টায় ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ : নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্তগ্রহণসহ ট্রেড ইউনিয়নের সর্বস্তরের নারীর অংশগ্রহণে অগ্রসরতা’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে। নারীশ্রমিক কণ্ঠে’র আহ্বায়ক শিরীন আখতার এমপি’র সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেনন: মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, এমপি, ফ্রেডরিক এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস) এর রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ টিনা ব্লুম এবং আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর আইনুন নাহার এবং ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর তানিয়া হক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাসুদ এম রশিদ চৌধুরী এমপি বলেন, নারীরা উন্নয়নের অংশীদার। নারী-পুরুষের উন্নয়নে একটি সমাজ ও দেশ এগিয়ে যায়। তাই নারীর উন্নয়নে নারীর প্রতি যে প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলি দূর করতে হবে। নারীশ্রমিকের ন্যায্য মজুরি,

মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। টিনা ব্লম বলেন, সারা বিশে^ নারীর একই সমস্যা চলছে তাই সবাই একসাথে কাজ করছি।

‘নারীশ্রমিক কন্ঠ’ আমাদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। আশা করি, এই মঞ্চ নারীশ্রমিকদের অগ্রসরে কাজ করে যাবে।

প্রফেসর আইনুন নাহার বলেন, নারীকে তার দাবি পূরণে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে নারীর শ্রেণিগত অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে হবে এবং নারীকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হতে হবে । প্রফেসর তানিয়া হক বলেন,

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর একটি গবেষণা বলছে, পরিবারের দায়িত্ব এবং সন্তানের দেখাশুনার জন্য ১০.৬৮% নারী চাকরি ছেড়ে ঘরে ফিরে গিয়েছে। তিনি মনে করেন, শ্রমিকের পরিচয় লিঙ্গের মাধ্যমে নয় কাজের মাধ্যমে সুতরাং নারীর প্রতি মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে শিরীন আখতার এমপি বলেন, নারীশ্রমিক কন্ঠ নারীর বাধাগুলিকে চিহ্নিত করে নারীশ্রমিকের নেতৃত্বকে বিকশিত করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি মঞ্চ। একজন নারীর মনের কথা বলার জায়গা নেই যেটা পুরুষের আছে। তাই নারীরও একটা আড্ডার জায়গা থাকতে হবে যেখানে নারীরা তার হাসি, আনন্দ, দুঃখ বিনিময় করবে। একইসাথে নারীর প্রতি যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে এবং হাইকোর্টের নীতিমালাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সেমিনারে সঞ্চালনা করেন নারীশ্রমিক কণ্ঠে’র সদস্য হামিদা খাতুন, শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন লিমা ফেরদৌস এবং ধারণাপত্র পাঠ করেন উম্মে হাসান ঝলমল। আরও বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, নারীশ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংগঠন, বিভিন্ন সেক্টরের নারীশ্রমিকগণ।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০: নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্তগ্রহণসহ ট্রেড ইউনিয়নের সর্বস্তরের নারীর অংশগ্রহণে অগ্রসরতা’

শীর্ষক সেমিনার থেকে নারীশ্রমিক কন্ঠে সুপারিশ:

নারীশ্রমিকের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি ও শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা; অর্থনৈতিক ন্যায্যতা গড়ে তোলা; প্রাতিষ্ঠানিকঅপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমশক্তির মধ্যে নারী-পুরুষ সকলের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা তৈরি করা; নারীর জন্য কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে

মাতৃত্বকালীন সময়ে সহযোগিতা ; ট্রেড ইউনিয়নে নারীশ্রমিকের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও নারী-পুরুষ শ্রমিকের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারীশ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদার সুরক্ষায় আইনি পদক্ষেপ পরিচালনা করা; সকল স্তরের নারীশ্রমিকের অর্জনসমূহ দেশজ-আন্তর্জাতিক পরিম-লে তুলে ধরা।

‘নারীশ্রমিক কণ্ঠ’ একটি কার্যকর শ্রমজীবী নারীদের মঞ্চ যা সকল নারীর অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে। নারীশ্রমিকের প্রতি সহিংসতার, সমাজের সকল নিগৃহের ও বঞ্চনার প্রতিবাদ করবে। ‘কর্মজীবী নারী’ এই মঞ্চের সচিবালয় হিসেবে কাজ করছে ২০১৬ সাল থেকে।

 PDF Link | bdsangbadmela.com