“সকল শ্রমিকদের জন্য জাতীয় মজুরী বোর্ড গঠনের করতে, সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়াজ তুলতে হবে”

“সকল শ্রমিকদের জন্য জাতীয় মজুরী বোর্ড গঠনের করতে, সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়াজ তুলতে হবে”

-শিরীন আখতার এমপি

আজ ১৬ ফেব্রয়ারি, ২০২৩ (বৃহস্পতিবার), সকাল ১০.৩০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডেইলি স্টারের এ এস মাহমুদ মিলনায়তনে (ডেইলি স্টার ভবন, ফার্মগেট, ঢাকা) সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প শ্রমিকদের উপর করা গবেষণালব্দ ফলাফল নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় কর্মজীবী নারী’র সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য শিরীন আখতার এমপি, ফেনী-১ আসন এবং সদস্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, লিয়াকত আলী মোল্লা, চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা জজ ) নিম্নতম মজুরী  বোর্ড, মোছা: হাজেরা খাতুন, যুগ্ম সচিব, বাজেট অধিশাখা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়, রোখসানা চৌধুরী, উপপরিচালক (উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান শাখা) প্রধান কার্যালয়, শ্রমঅধিদপ্তর, নুজহাত জাবিন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ইকোনমিক জাসটিস) ক্রিশ্চিয়ান এইড। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক চৌধুরী আশিকুল আলম, শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি, রাজেকুজ্জামান রতন, এনসিসিডব্লিউই এর সদস্য সচিব নইমুল আহসান জুয়েল। বক্তব্য রাখেন, প্রক্ষাত স্কপ নেতা সৈয়দ শাহ্ মোঃ আবু জাফর, শাকিল আকতার, সাইফুজ্জামান বাদশা, আব্দুল ওহায়েদ, কামরুল আহসান, হামিদা খাতুন, শামিম আরা, নাহিদুল ইসলাম নয়ন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডঃ জাকির হোসেন, অধ্যাপক, ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কর্মজীবী নারীর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নারী শ্রমিকের সমস্যা আর নারীর সমস্যা দুটো আলাদা ব্যাপার। এখানে নারীরাও যেমন নির্যাতিত হয় তেমনি নারী শ্রমিকরাও কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের নির্যাতনেত স্বীকার হয়। সামুদ্রিক খাদ্য শিল্প শ্রমিকরা জানেনা তাদের জন্য আরো কত সুন্দর পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরো বলেন; এই শ্রমিদের জন্য একটা উন্মক্ত প্লাটফর্ম দরকার, যেখানে তারা দাঁড়িয়ে তাদের অধিকারের কথা বলতে পারবেন। আজ আলোচনায় চিংড়ি শিল্পের উপর ফোকাস হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি ২০ বছর পরে অনেক পরিবর্তন হবে। প্রধানমন্ত্রী ১০০ বছর পরের কথাও বলে গেছেন। আমরা সমুদ্রসীমা জয় করেছি, ফলে আমাদের সুযোগ অনেক বেড়ে গেছে। তাই এই খাতের শিল্প অনেক প্রসারিত হবে। এখানে যারা কাজ করেন তাদের পাশে দাঁড়ানো দরকার। পুরো মৎস প্রক্রিয়াকরণজাতের উপর আমাদেরকে ফোকাস করতে হবে। ন্যূনতম মজুরির উপর লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০,০০০ টাকা করার দাবি বহুদিন থেকে উত্থাপিত হচ্ছে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন; সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এর মধ্যে চিংড়িকে আমরা মজুরি বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত করেছি। এই বোর্ড মালিক ও শ্রমিকের দাবিনামা নিয়ে আলোচনা ও বার্গেনিং করে। যে হারে বাজার মূল্য বেড়েছে সে হারে মানুষের আয় কমেছে। শ্রমিকের অবস্থা খুব খারাপ এটা বুঝতে পারছি। এরপর মজুরী ইস্যুতে কথা উঠলে আমরা এই বিষয়গুলো তুলে ধরবো। মজুরি বোর্ড সবসময় শ্রমিকের পক্ষেই কাজ করবে। 

মোছা: হাজেরা খাতুন বলেন; এখানে কারো দোষ নেই, তবে যে যেখানে খারাপ অবস্থায় আছে তাকে সেখান থেকে তুলে আনতে হবে। ন্যূনতম মজুরি ডিক্লিয়ার করলে কিন্তু অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। নারীরা পাচ্ছে ৫০০ টাকা এবং পুরুষরা পাচ্ছে ৭০০ টাকা। এই বৈষম্য না করে নারীকে দিয়ে অন্য কাজ করান যেখানে তাদের কষ্ট কম হবে। শ্রম আইনে বলা হয়েছে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সহানুভূতি দেখাতে হবে। সংগঠন করতে হবে এবং সংগঠন করার জন্য মালিককে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রোখসানা চৌধুরী বলেন; সামুদ্রিক খাতের সাথে জড়িত নারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। যদি সম্ভব হয় এই শ্রমিকদের নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন করা, তাহলে ভালো হয়। তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আমাদের ঠিক রাখতে হবে। শুধু কক্সবাজারে ছোট বড় শ্রমিক কাজ করে ১ লাখ ২০ হাজার।  যারা ইনফরমাল শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তারা যে কি পরিমান খারাপ আছে তাদের নিবন্ধন ও তালিকা করতে হবে এবং তাদের যদি বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হয় তাহলে তাদের উন্নতি হবে। তাদের জন্য রেশনিং, বীমা ব্যবস্থা করতে হবে। দাদন ব্যবস্থা কমাতে হবে।

বক্তারা বলেন; মজুরি কোন দয়া নয়, মজুরি কোন ডাকাতিও নয়। কেউ কাউকে বিনা পয়সায় খেতে দেয় না। বার্গেনিং এর জায়গায় শ্রমিকরা হীনমন্যতায় আছে। ফলে মালিকরা প্রাথমিকভাবে শ্রমিকদেরকে নীচু দৃষ্টিতে দেখে। মালিক ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেবে না এটাই স্বাভাবিক। তারা শ্রমিককে মর্যাদা দিতে চায় না, মজুরি দিতে চায় না। ফলে মর্যাদা পেতে হলে বার্গেইন করতে হবে। তারা আরো বলেন;  বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮- ২০ টি কোম্পানী চালু আছে। প্রশ্ন হলো যে, ১৮- ২০ টি কোম্পানী চালু থাকলে ১০৫ টা কেন সরকারি নথিতে দেখা যায়। আমাদের কাছে রিপোর্ট আছে যে এই মালিকরা এই ফ্যাক্টরিকে দেখিয়ে ব্যাংক লোন নিয়ে অন্য ব্যবসা করছে। ফলে শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছে।

বার্তা প্রেরক
হাসিনা আক্তার
সমন্বয়ক, এইচ.আর এন্ড এডমিন, কর্মজীবী নারী
যোগাযোগ: ০১৭১২৪৭৯৫০১

Newspaper Links:

  1. https://epaper.ajkerpatrika.com/indexs.php?pagedate=2023-02-17&edcode=1&pgnum=1
  2. https://www.tbsnews.net/bangladesh/realistic-minimum-wage-sea-food-processing-workers-demanded-586218
  3. https://www.protidinersangbad.com/national/382757
  4. https://epaper.ajkerpatrika.com/imageview/68911/1386609664.html?fbclid=IwAR1l-JRs1AWrfhkKnv_THOFwEbLF4Gt0zTmHIIG96MdOBBbYwzZLoyS94As
  5. https://priyobanglanews24.com/2023/02/17/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b6%e0%a7%8d/?fbclid=IwAR20g1zzjHFRo_doJQ_cwbhxnE1roBNKE5Da16f6E8jLJIs7tcyx_cVZkzQ

 

“সকল শ্রমিকদের জন্য জাতীয় মজুরী বোর্ড গঠনের করতে, সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়াজ তুলতে হবে”

“সকল শ্রমিকদের জন্য জাতীয় মজুরী বোর্ড গঠনের করতে, সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়াজ তুলতে হবে”

-শিরীন আখতার এমপি

আজ ১৬ ফেব্রয়ারি, ২০২৩ (বৃহস্পতিবার), সকাল ১০.৩০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডেইলি স্টারের এ এস মাহমুদ মিলনায়তনে (ডেইলি স্টার ভবন, ফার্মগেট, ঢাকা) সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প শ্রমিকদের উপর করা গবেষণালব্দ ফলাফল নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় কর্মজীবী নারী’র সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য শিরীন আখতার এমপি, ফেনী-১ আসন এবং সদস্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, লিয়াকত আলী মোল্লা, চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা জজ ) নিম্নতম মজুরী  বোর্ড, মোছা: হাজেরা খাতুন, যুগ্ম সচিব, বাজেট অধিশাখা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়, রোখসানা চৌধুরী, উপপরিচালক (উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান শাখা) প্রধান কার্যালয়, শ্রমঅধিদপ্তর, নুজহাত জাবিন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ইকোনমিক জাসটিস) ক্রিশ্চিয়ান এইড। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক চৌধুরী আশিকুল আলম, শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি, রাজেকুজ্জামান রতন, এনসিসিডব্লিউই এর সদস্য সচিব নইমুল আহসান জুয়েল। বক্তব্য রাখেন, প্রক্ষাত স্কপ নেতা সৈয়দ শাহ্ মোঃ আবু জাফর, শাকিল আকতার, সাইফুজ্জামান বাদশা, আব্দুল ওহায়েদ, কামরুল আহসান, হামিদা খাতুন, শামিম আরা, নাহিদুল ইসলাম নয়ন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডঃ জাকির হোসেন, অধ্যাপক, ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কর্মজীবী নারীর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নারী শ্রমিকের সমস্যা আর নারীর সমস্যা দুটো আলাদা ব্যাপার। এখানে নারীরাও যেমন নির্যাতিত হয় তেমনি নারী শ্রমিকরাও কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের নির্যাতনেত স্বীকার হয়। সামুদ্রিক খাদ্য শিল্প শ্রমিকরা জানেনা তাদের জন্য আরো কত সুন্দর পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরো বলেন; এই শ্রমিদের জন্য একটা উন্মক্ত প্লাটফর্ম দরকার, যেখানে তারা দাঁড়িয়ে তাদের অধিকারের কথা বলতে পারবেন। আজ আলোচনায় চিংড়ি শিল্পের উপর ফোকাস হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি ২০ বছর পরে অনেক পরিবর্তন হবে। প্রধানমন্ত্রী ১০০ বছর পরের কথাও বলে গেছেন। আমরা সমুদ্রসীমা জয় করেছি, ফলে আমাদের সুযোগ অনেক বেড়ে গেছে। তাই এই খাতের শিল্প অনেক প্রসারিত হবে। এখানে যারা কাজ করেন তাদের পাশে দাঁড়ানো দরকার। পুরো মৎস প্রক্রিয়াকরণজাতের উপর আমাদেরকে ফোকাস করতে হবে। ন্যূনতম মজুরির উপর লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০,০০০ টাকা করার দাবি বহুদিন থেকে উত্থাপিত হচ্ছে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন; সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এর মধ্যে চিংড়িকে আমরা মজুরি বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত করেছি। এই বোর্ড মালিক ও শ্রমিকের দাবিনামা নিয়ে আলোচনা ও বার্গেনিং করে। যে হারে বাজার মূল্য বেড়েছে সে হারে মানুষের আয় কমেছে। শ্রমিকের অবস্থা খুব খারাপ এটা বুঝতে পারছি। এরপর মজুরী ইস্যুতে কথা উঠলে আমরা এই বিষয়গুলো তুলে ধরবো। মজুরি বোর্ড সবসময় শ্রমিকের পক্ষেই কাজ করবে। 

মোছা: হাজেরা খাতুন বলেন; এখানে কারো দোষ নেই, তবে যে যেখানে খারাপ অবস্থায় আছে তাকে সেখান থেকে তুলে আনতে হবে। ন্যূনতম মজুরি ডিক্লিয়ার করলে কিন্তু অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। নারীরা পাচ্ছে ৫০০ টাকা এবং পুরুষরা পাচ্ছে ৭০০ টাকা। এই বৈষম্য না করে নারীকে দিয়ে অন্য কাজ করান যেখানে তাদের কষ্ট কম হবে। শ্রম আইনে বলা হয়েছে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সহানুভূতি দেখাতে হবে। সংগঠন করতে হবে এবং সংগঠন করার জন্য মালিককে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রোখসানা চৌধুরী বলেন; সামুদ্রিক খাতের সাথে জড়িত নারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। যদি সম্ভব হয় এই শ্রমিকদের নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন করা, তাহলে ভালো হয়। তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আমাদের ঠিক রাখতে হবে। শুধু কক্সবাজারে ছোট বড় শ্রমিক কাজ করে ১ লাখ ২০ হাজার।  যারা ইনফরমাল শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তারা যে কি পরিমান খারাপ আছে তাদের নিবন্ধন ও তালিকা করতে হবে এবং তাদের যদি বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হয় তাহলে তাদের উন্নতি হবে। তাদের জন্য রেশনিং, বীমা ব্যবস্থা করতে হবে। দাদন ব্যবস্থা কমাতে হবে।

বক্তারা বলেন; মজুরি কোন দয়া নয়, মজুরি কোন ডাকাতিও নয়। কেউ কাউকে বিনা পয়সায় খেতে দেয় না। বার্গেনিং এর জায়গায় শ্রমিকরা হীনমন্যতায় আছে। ফলে মালিকরা প্রাথমিকভাবে শ্রমিকদেরকে নীচু দৃষ্টিতে দেখে। মালিক ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেবে না এটাই স্বাভাবিক। তারা শ্রমিককে মর্যাদা দিতে চায় না, মজুরি দিতে চায় না। ফলে মর্যাদা পেতে হলে বার্গেইন করতে হবে। তারা আরো বলেন;  বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮- ২০ টি কোম্পানী চালু আছে। প্রশ্ন হলো যে, ১৮- ২০ টি কোম্পানী চালু থাকলে ১০৫ টা কেন সরকারি নথিতে দেখা যায়। আমাদের কাছে রিপোর্ট আছে যে এই মালিকরা এই ফ্যাক্টরিকে দেখিয়ে ব্যাংক লোন নিয়ে অন্য ব্যবসা করছে। ফলে শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছে।

বার্তা প্রেরক
হাসিনা আক্তার
সমন্বয়ক, এইচ.আর এন্ড এডমিন, কর্মজীবী নারী
যোগাযোগ: ০১৭১২৪৭৯৫০১

Newspaper Links:

  1. https://epaper.ajkerpatrika.com/indexs.php?pagedate=2023-02-17&edcode=1&pgnum=1
  2. https://www.tbsnews.net/bangladesh/realistic-minimum-wage-sea-food-processing-workers-demanded-586218
  3. https://www.protidinersangbad.com/national/382757
  4. https://epaper.ajkerpatrika.com/imageview/68911/1386609664.html?fbclid=IwAR1l-JRs1AWrfhkKnv_THOFwEbLF4Gt0zTmHIIG96MdOBBbYwzZLoyS94As
  5. https://priyobanglanews24.com/2023/02/17/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b6%e0%a7%8d/?fbclid=IwAR20g1zzjHFRo_doJQ_cwbhxnE1roBNKE5Da16f6E8jLJIs7tcyx_cVZkzQ
কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়ন করো ও আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন করো

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়ন করো ও আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন করো

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ০৫/১২/২০২২
কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়ন করো ও আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন করো

-কর্মজীবী নারী

কর্মজীবী নারী’র ‘একতায় মর্যাদা’ প্রকল্পের অধীনে আজ ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখ সোমবার বিকল ০৪ টায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও টেরে ডেস হোম্স ইতালিয়া-এর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে মিরপুর-১৩ এলাকায় মানববন্ধন এর আয়োজন করে।

কর্মজীবী নারী’র সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কর্মজীবী নারী’র সমন্বয়ক হাছিনা আক্তার, প্রকল্প সমন্বয়ক শাহিদা আক্তার, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হুরমত আলী, জাতীয় শ্রমিক জোট- বাংলাদেশ এর ঢাকা মহানগর এর যুগ্ম আহবায়ক শেখ শাহানাজ প্রমুখ। কর্মসূচি পরিচালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা আল- জাহিদ, প্রকল্প সমন্বয়ক কাজী গুলশান আরা এবং রাবিতা ইসলাম।

সভাপতির বক্তরে‌্য উম্মে হাসান ঝলমল বলেন- প্রতিটি অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, না হলে নারী নির্যাতন রোধ করা সম্ভব হবে না। আমাদের দেশের সার্বিক উন্নয়নের সাথে নারী নির্যাতনের চিত্রটি একেবারেই মেলানো যাই না, এখনও কেন নির্যাতন হবে? তাই যেখানেই নির্যাতন হবে সেখানেই আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর এক্ষেত্রে আমাদের বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন পুরুষদের নিকট থেকে।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে বক্তারা বলেন, নারীরা আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপন মহিমায় জায়গা করে নিচ্ছে। সাফ গেমসে আমাদের নারীদের যে অভিনব সফলতা সেটার মাধ্যমেই আমারা প্রমাণ করতে পেরেছি যে, সুযোগ পেলে নারীরাও এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে নারীরা এগিয়ে আসছে, সফলও হচ্ছে তবে নারীর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিবেশের অভাব নারীর এই অগ্রগতিকে বাঁধাগ্রস্ত করছে। কন্যা শিশু থেকে বৃদ্ধ নারী পর্যন্ত সকলেই বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি বখাটে ছেলেদের উত্যক্ততার কারনে আগামীর ভবিষ্যৎ মেয়ে শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাচ্ছে। এ কারনে বিভিন্ন পরিবারে বাল্য বিয়ের প্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে শ্রমজীবী কর্মজীবী নারীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ কর্মপরিবেশের ব্যবস্থা না থাকায় যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে নারীরা।

বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী সংবিধানের আলোকে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি হয়রানি ও নির্যাতন নিরসনে প্রচলিত আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ও দুর্বল আইন সংশোধনের জন্য এই মানববন্ধন থেকে আহবান জানান বক্তারা।

এছাড়া নারীর জন্য নির্যাতনমুক্ত, নিরাপদ পরিবার, কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলা এবং সেই সাথে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়ন ও আইএলও কনভেনশন- ১৯০ অনুসমর্থন করার জোর দাবী জানান আয়োজনে উপস্থিত বক্তারা ।

এই কর্মসূচী থেকে কর্মজীবী নারী’র দাবীসমূহ:

১.               নারীর জন্য নির্যাতনমুক্ত ও নিরাপদ, পরিবার এবং কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলতে হবে;
২.              নারী-পুরুষ সমান কাজে সমান মজুরি নিশ্চিত করতে হবে;
৩.              নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধ করতে হবে;
৪.              বৈষম্যহীনভাবে সকলক্ষেত্রে নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত ও নারীবান্ধব, কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে;
৫.              কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে হবে, আইএলও কনভেনশন- ১৯০ অনুসমর্থন করতে হবে;
৬.             গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে;
৭.              গৃহশ্রমিকের অধিকার রক্ষায় গৃহশ্রমিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা ২০১৫ বাস্তবায়ন করতে হবে;
৮.              সকল কর্মজীবী শ্রমজীবী নারীদের জন্য, ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে হবে।
৯.              নারী নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
১০.            নির্যাতিতদের সঠিক বিচার পেতে আইনী প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।
১১.            নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে হবে
১২.            নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার করতে প্রচলিত দুর্বল বা ত্রুটিপূর্ণ আইনের সংস্কার এবং যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন (PDF)


বার্তা প্রেরক,

রাবিতা ইসলাম,
প্রকল্প সমন্বয়ক, কর্মজীবী নারী
যোগাযোগ: (০১৯৩৭-০৩৮৭০০)

 

 

নারীর জন ̈ কর্মক্ষেত্র ও চলাচল হোক ঝুঁকিমু৩, সহিংসতামু৩ এবং নিরাপদ

নারীর জন ̈ কর্মক্ষেত্র ও চলাচল হোক ঝুঁকিমু৩, সহিংসতামু৩ এবং নিরাপদ

আজ ১ ডিসেম্বর, ২০২২ আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ, ২০২২ পালন উপলক্ষে নারীশ্রমিক কণ্ঠ ‘ নারীর জন ̈ কর্মক্ষেত্র ও চলাচলহোকঝুঁকিম,সহিংসতামুক্ত এবং নিরাপদ’এইপ্রতিপাদ ̈নিয়ে মিরপুর-১০-এ আইডিয়াল ল্যাবেটারি স্কুলের সামনেএকটি মানববন্ধনের আয়োজন করে।

বিস্তারিত জানার জন্য ক্লিক করুন