Jul 11, 2021 | Press Release
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ১০/০৭/২০২১
গত ০৮ জুলাই, ২০২১ বৃহষ্পতিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজে লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিহত ও আরো প্রায় ৩০ জনের মতো শ্রমিক আহতের ঘটনা ঘটে। হতাহত শ্রমিকদের বেশীরভাগই নারী ও শিশু/কিশোর। ভয়াবহ এ ঘটনায় শ্রমিক হতাহতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কর্মজীবী নারী। একই সঙ্গে হতাহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে কর্মজীবী নারী’র সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক শারমিন কবীর, সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, কারখানায় পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখা, অগ্নিকান্ডের সময় দরজা বন্ধ রেখে ও উদ্ধারকারীদের প্রবেশে বাধা দিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ এই শ্রমিকদের হত্যা করেছে। এমনকি কারখানাটিতে শ্রম আইন ভঙ্গ করে শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর তথ্যও মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, রানা প্লাজা, তাজরীন গার্মেন্টস, টেম্পাকোসহ একের পর এক কারখানা দূর্ঘটনায় হাজার হাজার শ্রমিকের প্রাণহানি হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ঘটনারই সুষ্ঠ বিচার হয়নি। কোনো দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ার কারণেই দেশের শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বলে তারা মনে করেন।
কর্মজীবী নারী’র নেতৃবৃন্দ শ্রম আইন ভঙ্গ করে শিশু শ্রমিক নিয়োগ, কারখানায় পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব, দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণে অবহেলা, অপ্রতুল নিরাপত্তা ও বহির্গমন ব্যবস্থা বজায় রেখে শ্রমিকদের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দেয়াকে মালিকের অপরাধ বলে মনে করেন। তারা বলেন, শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা প্রদান ও শ্রম আইন বাস্তাবায়নের দায়িত্ব শ্রম মন্ত্রণালয়ের। একই সঙ্গে কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখা হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের। কিন্তু ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ড ও শ্রমিক হত্যার ঘটনায় প্রতীয়মান হয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হয়েছেন। সরকার এই হতাহতের দায় এড়াতে পারে না এবং তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে বলে দাবি করেছে কর্মজীবী নারী। একই সঙ্গে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় নিহত শ্রমিকদের সনাক্তকরণ ও প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিতকরণ, নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহত শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং শিশু শ্রম বন্ধসহ এ ধরণের ঘটনা বন্ধে ও শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন নেতৃবৃন্দ।
বার্তা প্রেরক
ইসরাত জাহান পপি
May 18, 2021 | Press Release
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ১৮/০৫/২০২১
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অবরুদ্ধ রেখে লাঞ্জিত করা ও মিথ্যা মামলা দায়ের করায় কর্মজীবী নারীর তীব্র নিন্দা এবং তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি | PDF
গত ১৭ মে, ২০২১ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণলয়ে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অবরুদ্ধ রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলে শাহবাগ থানায় প্রেরণ এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ ও আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করেছেন। এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কর্মজীবী নারী’র সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক শারমিন কবীর, সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ধরণের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী ও অগ্রহণযোগ্য এবং শ্রমিক ও জনগণের অধিকার ক্ষুন্ন করছে।
নেতৃবৃন্দ আরো আশঙ্কা করেন যে, স্বাস্থ্য খাতের দূর্নীতি আড়াল করতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে এ ধরণের পরিস্থিতির শীকার হতে হয়েছে। যা জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এক জন সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এই হয়রানির শিকার হওয়ায় শ্রমিক হিসেবে তার অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় স্বাধীন এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আবশ্যক। যে কোনো তথ্য জানার অধিকার রয়েছে জনগণের। এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলেছেন দেশের সাংবাদিকরা। কিন্তু রোজিনা ইসলামের সাথে ঘটা এ ঘটনা যেমন অগ্রহণযোগ্য তেমনি অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ওপর বড় আঘাত।
এ পরিস্থিতিতে কর্মজীবী নারী’র নেতৃবৃন্দ রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত সকল মিথ্যা মামলা অপসারণ, রিমান্ডের আবেদন নাকচ ও দ্রুত জামিনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন। একইসাথে স্বাস্থ্য খাতের দূর্নীতি রোধে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
বার্তা প্রেরক
May 16, 2021 | Press Release
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ১৬/০৫/২০২১
ঈদের ছুটি নিয়ে শ্রমিকের ওপর চালানো গুলি ও নির্যাতনের প্রতিবাদ কর্মজীবী নারী’র | PDF
গত ১০ মে, ২০২১ তারিখে গাজীপুরের টঙ্গীতে হামীম গ্রুপের একটি কারখানায় ঈদে ১০ দিনের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের ওপর গুলি ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে ১৫ জন শ্রমিক আহত হন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কর্মজীবী নারী’র সভাপতি ড. প্রতীমা পাল মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক শারমিন কবীর, সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমলসহ নেত্রীবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, করোনা অতিমারীতে সারাদেশ যখন লকডাউনে স্থবির, তখনও গার্মেন্টস কারখানা খোলা রাখায় নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের পোশাকশ্রমিকরা। অন্যদিকে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ঈদুল-ফিতরের দুই মাস আগে থেকে সাপ্তাহিক ছুটি বন্ধ করে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা অতিমারী ঠেকাতে সরকারের ঘোষিত তিনদিনের ছুটি নিয়ে শ্রমিকদের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই শ্রমিকদের ওপর তা চাপিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে দুই মাস আগে থেকে সাপ্তাহিক ছুটি বন্ধ করে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়ার পরেও ছুটি দিতে না পারার কারণে তাদের দিয়ে করানো অতিরিক্ত কাজের মজুরি দেবার বিষয়েও সরকার বা মালিক পক্ষের কাছে থেকে কোন দিকনির্দেশনা না থাকায় আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। উপরন্তু মালিক-শ্রমিকের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা না করে শ্রমিকদের ওপর গুলি ও লাঠিচার্জ করা হয়। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, মালিক ও সরকার পক্ষের এহেন আচরণ অন্যায্য, শ্রমিকের সাথে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে সুষ্ঠুভাবে ঈদের ছুটির বিষয়টি সমাধান করা যেত।
উক্ত পরিস্থিতিতে কর্মজীবী নারী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে শ্রমিকদের পাওনা বেতন-বোনাস পরিশোধ করার এবং শ্রমিকের ওপর চালানো গুলি ও লাঠিচার্জের বিচার দাবি করছে। পাশাপাশি আহত সকল শ্রমিকের প্রতি সমবেদনা ও সংহতি জ্ঞাপন করছে।
বার্তা প্রেরক
হাসিনা আক্তার
সমন্বয়ক, কর্মজীবী নারী
PDF File
May 4, 2021 | Press Release
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ০৪/০৫/২০২১
গুলশানে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কর্মজীবী নারী’র প্রতিবাদ
গত ২৬ এপ্রিল ২০২১ তারিখে রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে কলেজ ছাত্রী মোসেরাত জাহান মুনিয়ার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কর্মজীবী নারী’র সভাপতি ড. প্রতীমা পাল মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক শারমিন কবীর, সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমলসহ নেত্রীবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিশ্ব যখন করোনা মহামারির সংকটে নিপতিত তখন দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা সকলকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কর্মজীবী নারী মনে করে যে,পূর্বে এধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে ও অপরাধ করেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকছে।
উক্ত পরিস্থিতিতে কর্মজীবী নারী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে অপরাধের সুষ্ঠ তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছে। সেই সাথে মুনিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।
বার্তা প্রেরক
দেওয়ান আব্দুস সাফি
সমন্বয়ক
কর্মজীবী নারী
PDF File
Apr 30, 2021 | News and Events
মহান মে দিবস-২০২১ এবং কর্মজীবী নারী’র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তাবিত দাবিসমূহ
Download Link
